দ্বিতীয় দফায় শান্তির লক্ষ্যে “যুদ্ধের” প্রস্তুতি আধা সেনাবাহিনীর

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। CRPF প্রথমবার ২৪ টনের সাঁজোয়া WhAP মোতায়েন করে নজর কাড়ল রাজ্যে।

west-bengal-second-phase-election-crpf-armored-vehicle-deployment

কলকাতা: প্রথম দফার নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর মিলেছিল। (second phase election)দ্বিতীয় দফায় একেবারেই ঢিলেঢালা নয় বরং স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মোতায়েন হয়েছে রেকর্ড সাঁজোয়া গাড়ি। (সিআরপিএফ) শক্তিশালী সাঁজোয়া নামে পরিচিত আর্মার্ড ভেহিকলগুলো রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছে গেছে। এই ভারী সাঁজোয়া যানগুলো দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরেছে তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অভিনেতা দিগন্ত তৃণমূলের মঞ্চে কেন! প্রশ্ন শুভেন্দুর

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং প্রত্যেক ভোটার নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায় বাকি আসনগুলোতে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় আকারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল সন্ত্রাস রুখতে বড় পদক্ষেপ আগরওয়ালের

মোট প্রায় ২.৪ লক্ষেরও বেশি সিএপিএফ জওয়ান (প্রায় ২৪০০ কোম্পানি) রাজ্যে মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে সিআরপিএফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় দফার আগে সিআরপিএফের হেভি আর্মার্ড ভেহিকলগুলো যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘বিস্ট’ বলে ডাকা হচ্ছে রাস্তায় নেমে পড়েছে। এই ২৪ টন ওজনের হুইল্ড আর্মার্ড প্ল্যাটফর্ম (WhAP) যানগুলো এর আগে মূলত জম্মু-কাশ্মীরের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহৃত হতো।

আরও দেখুনঃ প্রথম দফার ভোটের পরেই পালানোর চেষ্টা! মালদায় BSF র জালে ৩ বাংলাদেশি

বাংলায় প্রথমবারের মতো নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ভারী যানগুলো দেখে তাদের মনে এক ধরনের নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “আগের নির্বাচনে আমরা অনেক অশান্তি দেখেছি। বুথ ক্যাপচার, বোমাবাজি, ভয় দেখান এসবের কথা সবাই জানে। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী এত শক্তিশালীভাবে নেমেছে যে, সাধারণ মানুষ ভোট দিতে গিয়ে আর ভয় পাচ্ছে না।”

Advertisements

তবে কেউ কেউ এই ব্যাপক মোতায়েনকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের মতো’ বলেও মন্তব্য করছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বড় মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন, এটি কি ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা? অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের অতীতের নির্বাচনী হিংসার ইতিহাস বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisements