‘যুদ্ধ প্রায় শেষের মুখে, তবে আমরা থামিনি!’ ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন: একদিকে শান্তির বার্তা, অন্যদিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি! ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি “প্রায় শেষের মুখে” বলে দাবি করলেও, সামরিক অভিযান এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে তেহরানকে…

Trump Says Iran Deal Is Close

ওয়াশিংটন: একদিকে শান্তির বার্তা, অন্যদিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি! ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি “প্রায় শেষের মুখে” বলে দাবি করলেও, সামরিক অভিযান এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীতে ব্যাপক মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইসলামাবাদে আসন্ন দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নয়া উত্তেজনা।

Advertisements

ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি যুদ্ধ প্রায় শেষ। তবে আমরা এখনও আমাদের কাজ শেষ করিনি। আমি যদি এখনই সরে আসি, তবে ওই দেশটাকে নতুন করে গড়তে ওদের ২০ বছর লেগে যাবে। আমার মনে হয়, ওরা এখন মরিয়া হয়ে একটা চুক্তি চাইছে।”

   

কেন এই সামরিক অভিযান? ট্রাম্পের যুক্তি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। এই সরাসরি হামলার স্বপক্ষে ট্রাম্পের স্পষ্ট যুক্তি, তেহরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। তিনি বলেন, “আমি যদি এই হামলা না করতাম, তবে এতদিনে ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র চলে আসত। আর সেটা হলে গোটা বিশ্বকেই ওদের সামনে মাথা নত করতে হতো।”

হরমুজে অবরোধ ও আসন্ন শান্তি বৈঠক

নৌ-অবরোধ: ইসলামাবাদে প্রথম দফার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে কড়া নৌ-অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও একাধিক যুদ্ধজাহাজের পাহারায় ইতিমধ্যেই ইরানের বন্দরমুখী বহু জাহাজ ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

Advertisements

এই চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই আগামী দু’দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ফের আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ট্রাম্প একটি ‘বৃহত্তর চুক্তি’ করতে আগ্রহী। তবে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অবিশ্বাস রয়েছে, তা রাতারাতি মেটানো কঠিন।

আপাতত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও, আগামী ২২ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তারপর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, সে বিষয়ে আমেরিকা বা ইরান, কোনও তরফেই এখনও স্পষ্ট কোনও রূপরেখা দেওয়া হয়নি।

Advertisements