যে জলপথ খোলার জন্য এত লড়াই, আজ কেন সেই হরমুজই পুরোপুরি বন্ধের হুঙ্কার ট্রাম্পের?

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে এবার নতুন মাত্রাযোগ! যে হরমুজ প্রণালী নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতে এতদিন সরব ছিল আমেরিকা, এবার সেই জলপথকেই পুরোপুরি অবরুদ্ধ (Blockade) করার কড়া…

Donald Trump Oman Threat

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে এবার নতুন মাত্রাযোগ! যে হরমুজ প্রণালী নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার দাবিতে এতদিন সরব ছিল আমেরিকা, এবার সেই জলপথকেই পুরোপুরি অবরুদ্ধ (Blockade) করার কড়া নির্দেশ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণায় কার্যত হতবাক আন্তর্জাতিক মহল।

Advertisements

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক কূটনীতি। আসলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করেনি তেহরান। উলটে সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির থেকে মাথা পিছু ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ‘টোল’ আদায় করছে তারা। একইসঙ্গে নিজেদের তেল রপ্তানিও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে। গত মার্চ মাসেই প্রতিদিন গড়ে ১.৮৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে ইরান।

   

এতদিন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যত চোখ বন্ধ করেই ছিল আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসন ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি নিয়েছিল, যাতে যুদ্ধের আবহেও তেলের দাম আকাশছোঁয়া না হয়। জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছিল হোয়াইট হাউস।

কিন্তু এবার সেই কৌশলেই বড়সড় বদল আনলেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানকে ভাতে মারতেই আমেরিকার এই চরম পদক্ষেপ। ইরানের আয়ের মূল উৎস অর্থাৎ তেল রপ্তানি পুরোপুরি স্তব্ধ করে তাদের অর্থনীতিতে চূড়ান্ত আঘাত হানতে চাইছে মার্কিন নৌসেনা। তবে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিরাট জুয়া। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়তে পারে। এখন দেখার, আমেরিকার এই ‘হাই-রিস্ক’ স্ট্র্যাটেজি ইরানকে কাবু করতে পারে, নাকি বিশ্বজুড়ে উলটে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনে।

Advertisements
Advertisements