মাঝরাতের মিসাইল হামলায় সস্ত্রীক প্রাণ গেল ইরানের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানীর

তেহরান: উত্তর ইরানে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। (Mohammad Reza)২৮ মার্চ গিলান প্রদেশের দস্তক গ্রামে এক লক্ষ্যভেদী বিমান হামলায় নিহত…

mohammad-reza-kiya-killed-iran-nuclear-scientist-airstrike-northern-iran

তেহরান: উত্তর ইরানে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। (Mohammad Reza)২৮ মার্চ গিলান প্রদেশের দস্তক গ্রামে এক লক্ষ্যভেদী বিমান হামলায় নিহত হলেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী মহম্মদ রেজা কিয়া এবং তাঁর স্ত্রী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এই খবর নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

Advertisements

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দস্তকের একটি নির্দিষ্ট স্থানে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে কিয়া বসবাস করতেন। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত এই হামলায় তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে চলা দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে।

   

আরও দেখুনঃ AFC Asian Cup: হংকং ম্যাচে চার নতুন মুখে ভরসা খালিদ জামিলের

মহম্মদ রেজা কিয়া ছিলেন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু বিজ্ঞানী। পরমাণু পদার্থবিজ্ঞান ও পারমাণবিক প্রকৌশলে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের একাধিক সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দেশের পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর মৃত্যু ইরানের বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

এই হামলার সময়কালও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের একাধিক পরমাণু বিজ্ঞানী ও সামরিক আধিকারিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা। ঘটনার পর ইরান সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সরাসরি কাউকে দায়ী করা হয়নি, তবুও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় ‘শত্রু শক্তি’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলার পেছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisements

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের লক্ষ্যভেদী হামলা শুধু একজন ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এর মাধ্যমে একটি দেশের কৌশলগত পরিকল্পনাকেও আঘাত করা হয়। বিশেষ করে যখন সেই ব্যক্তি একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকেন, তখন এর প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

Advertisements