ধুরন্ধর ২ দেখে আক্ষেপ আবেগপ্রবণ রামুর

মুম্বই: ভারতের চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে মাইলফলক ছুঁয়েছে আদিত্য ধরের নতুন ছবি ধুরন্ধরের সিক্যুয়েল। (Dhurandhar 2)ধুরন্ধর ২ মুক্তির ৪ দিনের মধ্যেই রোজগার করেছে ৭০০ কোটির বেশি।…

dhurandhar-2-impact-indian-cinema-aditya-dhar

মুম্বই: ভারতের চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে মাইলফলক ছুঁয়েছে আদিত্য ধরের নতুন ছবি ধুরন্ধরের সিক্যুয়েল। (Dhurandhar 2)ধুরন্ধর ২ মুক্তির ৪ দিনের মধ্যেই রোজগার করেছে ৭০০ কোটির বেশি। এই ছবি দেখে আবেগপ্রবণ চলচ্চিত্র জগতের আরেক শক্তিশালী পরিচালক রামগোপাল ভার্মা। ছবিটির পরিচালক আদিত্য ধরের কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে।

Advertisements

পরিচালক রামগোপাল ভার্মা তাঁর দীর্ঘ পোস্টে জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধর ২’ শুধু গল্পের মোচড় বা টুইস্টের জন্য নয়, বরং সিনেমার গঠন ও উপস্থাপনার দিক থেকেও একেবারে নতুন দিশা দেখিয়েছে। তাঁর মতে, এতদিন আমরা যেভাবে সিনেমা ভাবতাম, এই ছবি সেটার ভিত্তিই নড়িয়ে দিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ডিজিটাল পেমেন্টে নয়া নিয়ম, ১ এপ্রিল থেকে দ্বিগুণ নিরাপত্তা বাধ্যতামূলক

তিনি নিজের কাজের সঙ্গেও তুলনা টেনে বলেছেন, তাঁর তৈরি শিবা, সত্য, কোম্পানি বা সরকার যেগুলো এক সময় বাস্তবধর্মী ক্রাইম ও ক্ষমতার রাজনীতির নিরিখে মাইলফলক হিসেবে ধরা হতো সেগুলিও ‘ধুরন্ধর ২’-এর তুলনায় এখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, এই নতুন ছবি যেন একটি ‘সায়েন্স থিসিস’, যেখানে পুরনো সিনেমার সব উপাদানকে বিশ্লেষণ করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে ছবিতে দেশপ্রেম, ভূরাজনীতি, সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইন্টেলিজেন্স ওয়ারফেয়ারের মতো জটিল বিষয়গুলোকে যেভাবে একসঙ্গে বোনা হয়েছে, তা দর্শকদের কাছে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গভীর মানবিক সম্পর্ক, বিশ্বাসঘাতকতা এবং আনুগত্যের আবেগ যা পুরো গল্পকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

Advertisements

চলচ্চিত্র মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই ছবি ভবিষ্যতে স্ক্রিপ্ট লেখার ধরণই বদলে দিতে পারে। এমনকি রামগোপাল সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, ১৯ মার্চ ২০২৬-এর আগে লেখা যে কোনও স্ক্রিপ্ট যদি এই নতুন মানদণ্ডের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারে, তাহলে তা পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। তাঁর কথায়, “এই ছবির পর পুরনো নিয়ম মেনে সিনেমা বানাতে গেলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

এই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্কও। কেউ বলছেন, এটি অতিরঞ্জিত প্রশংসা, আবার কেউ মনে করছেন, সত্যিই ভারতীয় সিনেমা এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে একথা মানতেই হবে, ‘ধুরন্ধর ২’ ইতিমধ্যেই দর্শক এবং সমালোচকদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিনেমা একটি পরিবর্তনশীল শিল্পমাধ্যম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভাষা, প্রযুক্তি এবং উপস্থাপনা বদলাতেই থাকে। সেই দিক থেকে ‘ধুরন্ধর ২’ হয়তো সেই পরিবর্তনেরই একটি বড় উদাহরণ, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ খুলে দিতে পারে।

Advertisements