আমেরিকাকে শেষ করতে প্রস্তুত কারা? বিস্ফোরক গোয়েন্দা তুলসী

ওয়াশিংটন: আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গাবার্ড সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটির সামনে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন (Tulsi Gabbard)। তিনি বলেছেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং…

tulsi-gabbard-us-missile-threat-warning-global-security

ওয়াশিংটন: আমেরিকার জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গাবার্ড সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটির সামনে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন (Tulsi Gabbard)। তিনি বলেছেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান এই পাঁচটি দেশ উন্নত মিসাইল প্রোগ্রাম তৈরি করছে, যার মধ্যে পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই মিসাইলগুলোর দূরত্ব ক্রমাগত বাড়ছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে এগুলো আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

Advertisements

এই হুমকি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।গাবার্ড ২০২৬ সালের অ্যানুয়াল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট উপস্থাপনের সময় সিনেটরদের সামনে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ইনটেলিজেন্স কমিউনিটি মূল্যায়ন করে যে, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান নতুন, উন্নত বা ঐতিহ্যবাহী মিসাইল ডেলিভারি সিস্টেম গবেষণা ও উন্নয়ন করছে যার মধ্যে পারমাণবিক এবং প্রচলিত পেলোড রয়েছে, এবং এগুলো আমাদের হোমল্যান্ডকে রেঞ্জের মধ্যে রাখছে।”

   

আরও দেখুনঃ ২ মিনিটেই মিলবে সিলিন্ডার, জেনে নিন কীভাবে ও কোথায়

বর্তমানে আমেরিকার হোমল্যান্ডে হুমকি দেওয়া মিসাইলের সংখ্যা ৩,০০০-এর বেশি, কিন্তু ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৬,০০০-এরও বেশি হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।চীন এবং রাশিয়া বিশেষভাবে উন্নত ডেলিভারি সিস্টেম তৈরি করছে, যা আমেরিকার মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে বা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার আইসিবিএম (ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল) ইতিমধ্যেই আমেরিকার মাটিতে পৌঁছাতে পারে, এবং তারা নিউক্লিয়ার অস্ত্রাগার আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইরানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা স্পেস লঞ্চ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি দেখিয়েছে, যা ২০৩৫-এর আগে একটি সামরিকভাবে কার্যকর আইসিবিএম তৈরির পথ খুলে দিতে পারে যদিও সাম্প্রতিক ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র আঘাতে তার মিসাইল ক্ষমতা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল পাকিস্তানের উল্লেখ। গাবার্ড বলেন, “পাকিস্তানের দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উন্নয়ন সম্ভাব্যভাবে আইসিবিএম-এ পরিণত হতে পারে, যার রেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ডে আঘাত করতে সক্ষম।”

Advertisements

এই মন্তব্য পাকিস্তানকে চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের সঙ্গে একই কাতারে রেখেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তানের মিসাইল প্রোগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে ভারত-কেন্দ্রিক হলেও, এই মূল্যায়ন বলছে যে, প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে যেতে পারে।

Advertisements