SIR মামলায় বাড়ল স্ক্রুটিনির সময়

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট SIR মামলায় ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির (SIR case)সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা…

sir-case-voter-list-scrutiny-extension-supreme-court

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট SIR মামলায় ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির (SIR case)সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা ERO (Electoral Registration Officer)-দের হাতে থাকবে। এই নির্দেশ অনেক রাজ্যে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ কমিয়েছে এবং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার পথ দেখিয়েছে।

Advertisements

SIR হলো নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ উদ্যোগ, যা ভোটার তালিকাকে পুরোপুরি পরিষ্কার করতে শুরু হয়েছে। বিহার থেকে শুরু করে এখন একাধিক রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তরপ্রদেশসহ এই প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা অন্যান্য কারণে ফ্ল্যাগ করা হয়েছে, যার ফলে অনেকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

   

আরও দেখুন: গৌরব গগৈ ‘পাকিস্তান এজেন্ট’! তোপ হিমন্তের, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কংগ্রেসের

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে এবং অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী দলগুলো এই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। তারা বলছে, এতে যোগ্য ভোটারদের অধিকার খর্ব হচ্ছে এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।আজকের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, অবজেকশন বা আপত্তি জমা দেওয়ার সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানো হোক।

এতে ভোটাররা আরও সময় পাবেন নথি জমা দিতে, আপত্তি জানাতে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করতে। বিশেষ করে যাঁদের নামে অসঙ্গতি দেখানো হয়েছে, তাঁদের জন্য এটা বড় স্বস্তি। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ERO-রাই নিতে পারবেন। অন্য কোনো অফিসার বা BLO (Booth Level Officer)-রা এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন না। এতে প্রক্রিয়ায় অপব্যবহারের আশঙ্কা কমবে এবং সিদ্ধান্তগুলো আরও ন্যায়সঙ্গত হবে।

Advertisements

আদালতের এই নির্দেশের পেছনে রয়েছে ভোটারদের অধিকার রক্ষার চিন্তা। অনেক রাজ্যে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। কেরালায় প্রায় ২৪ লক্ষ, তামিলনাড়ুতে ১.৭২ কোটি, উত্তরপ্রদেশে প্রায় ২.৮৯ কোটি নাম ফ্ল্যাগ করা হয়েছে। আদালত বলেছে, এসব নামের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ করতে হবে এবং অনলাইনে সার্চেবল ফরম্যাটে রাখতে হবে।

এতে ভোটাররা সহজেই জানতে পারবেন তাঁদের নাম কেন ফ্ল্যাগ করা হয়েছে এবং কীভাবে আপত্তি জানাবেন।নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, SIR-এর উদ্দেশ্য শুধু তালিকা পরিষ্কার করা যাতে শুধুমাত্র যোগ্য নাগরিকরা ভোটার হন। কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেছেন, এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আদালত বারবার বলেছে, প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।

আদালতের নির্দেশে আধার, রেশন কার্ড, EPIC-সহ বিভিন্ন নথি গ্রহণযোগ্য করা হয়েছে।এই নির্দেশের পর অনেক ভোটার সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজে আদালতে হাজির হয়ে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেছেন, SIR-এর মাধ্যমে বিরোধী ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আদালতের এই পদক্ষেপ তাঁদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

Advertisements