রাজনীতিই কাল হল! জেলে ভয়ঙ্কর পরিণতির পথে বিশ্বকাপ জয়ী

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন (Imran Khan)করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে যেখানে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মানবাধিকার লঙ্ঘন ও…

imran-khan-health-condition-jail-medical-negligence

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন (Imran Khan)করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে যেখানে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুরুতর চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ সরকার দাবি করছে কারা বিধি মেনেই ইমরান খানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই সামনে এসেছে ইমরান খানের চোখের গুরুতর রোগের তথ্য, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

Advertisements

২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তোষাখানা দুর্নীতি মামলা ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে জেলবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। পিটিআই-এর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার ফলেই ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে।

   

আরও দেখুন: বয়কটের ফল হাতে নাতে! বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চরম সিদ্ধান্ত

পিটিআই-এর প্রকাশিত মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খান ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ বা CRVO নামক এক গুরুতর চোখের সমস্যায় আক্রান্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই রোগে চোখের রেটিনার প্রধান রক্তবাহী শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়, যার ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এর জেরে চোখে রক্ত জমে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি দ্রুত ঝাপসা হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়-সংবেদনশীল সমস্যা। দ্রুত আধুনিক হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত চোখটি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পিটিআই নেতৃত্বের দাবি, এই অবস্থায় ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে কার্যত জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে প্রশাসন। দলের মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি এবং চেয়ারম্যান গোহর আলী খান অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে ‘নির্জন কারাবাসে’ রাখা হয়েছে। আদালতের একাধিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়েছে।

Advertisements

পিটিআই নেতাদের বক্তব্য, এটি শুধু চিকিৎসা অবহেলা নয়, বরং পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। তাঁরা মনে করছেন, ইমরান খানের শারীরিক দুর্বলতাকে হাতিয়ার করেই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগ পাকিস্তানের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও বিষয়টি নজরে রাখতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, শাহবাজ শরিফ সরকার এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, কারাগারের নিয়ম মেনেই ইমরান খানকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এবং কোনও ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়নি। সরকারের যুক্তি, নিরাপত্তা ও কারা বিধির কারণেই ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ সম্ভব হচ্ছে না।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক কেবল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নয় এর গভীরে রয়েছে পাকিস্তানের তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ। ইমরান খান এখনও পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নাম। তাঁর শারীরিক অবস্থা যত খারাপ হচ্ছে, ততই সরকার ও সেনা-সমর্থিত ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।

Advertisements