বিশ্বকাপের স্বপ্ন এখন হাতের মুঠোয়! ইরানবধের পর ‘বিস্ফোরক’ বিবিয়ানো

ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের প্রধান কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্দেস (Bibiano Fernandes) আবারও প্রমাণ করলেন—দৃঢ় বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দিশা থাকলে ভারতীয় ফুটবলের সম্ভাবনা অসীম। ইরানের বিরুদ্ধে…

Bibiano Fernandes india-u17

ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলের প্রধান কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্দেস (Bibiano Fernandes) আবারও প্রমাণ করলেন—দৃঢ় বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দিশা থাকলে ভারতীয় ফুটবলের সম্ভাবনা অসীম। ইরানের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক জয়ের পর ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ দল নিশ্চিত করেছে আগামী বছর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য AFC U17 এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা। এশিয়ান ফুটবলে এটি ভারতের দশম অংশগ্রহণ হতে চলেছে, আর বিবিয়ানোর জন্য এটি চতুর্থবার—এটাই তাঁর সবচেয়ে গৌরবময় রেকর্ড।

Advertisements

ইরানের বিরুদ্ধে এই জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে তাঁর AIFF-এর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী চুক্তি। সামনে থাকবে বড় টুর্নামেন্ট, বড় চ্যালেঞ্জ এবং আরও শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি। ঠিক তাই, AIFF-এর কাছ থেকে তিনি এখন একটি নতুন, শক্তিশালী চুক্তি এবং আগামী মে মাসের মূল টুর্নামেন্টের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শিবির আশা করছেন।

   

বিবিয়ানো TOI-কে জানান—

“এটি আমার দেখা সবচেয়ে কঠিন অভিযান ছিল। আগের মতো দীর্ঘ ক্যাম্প, বিদেশ সফর বা প্রস্তুতি ম্যাচ কিছুই পাইনি। ছেলেদের অনুপ্রাণিত রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।”

???? বিবিয়ানোর বিশ্বাসই বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা

এই যোগ্যতা অর্জন আসলে বিবিয়ানোর অদম্য বিশ্বাসেরই ফল। গোয়ার এই সাবেক মিডফিল্ডার বলতে দ্বিধা করেননি—

“আমি জানতাম আমরা পারব। শুধু ছেলেদের তা বিশ্বাস করাতে হতো।”

Advertisements

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বেঙ্গালুরু এফসির রিজার্ভ দলের দু’বছরের চাকরি ছেড়ে, স্বল্পমেয়াদে হলেও ভারতের দায়িত্ব নেন। তাঁর বক্তব্য—

“রিজার্ভ টিম প্রশিক্ষণ আমার জন্য ছিল না। আমি ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে কাজ করতে চাই, এখানেই আমার মন।”

বেঙ্গালুরু এফসি তাঁর এই আগ্রহ বুঝে তাঁকে চুক্তি থেকে মুক্ত করে দেয়।

⚽ কঠিন পথ পেরিয়ে কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত

আহমেদাবাদে গ্রুপ পর্বে ভারতের যাত্রা সহজ ছিল না।

  • প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে হতাশাজনক ড্র

  • তারপর চাইনিজ তাইপেইকে উড়িয়ে দেওয়া

  • তৃতীয় ম্যাচে লেবাননের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়

এই পরাজয়ের কারণে পুরো গ্রুপটাই জটিল হয়ে উঠেছিল। শেষ ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে জেতা ছাড়া কোনও পথ ছিল না। আর সেই ম্যাচেই ভারত দেখায় প্রকৃত লড়াকুর পরিচয়।

ইরান ছিল শারীরিকভাবে শক্তিশালী, প্রতিটি পজিশনে আরও অভিজ্ঞ। কিন্তু ভারত রক্ষণ গুছিয়ে খেলল, মুহূর্তে মুহূর্তে সুযোগ তৈরি করল এবং শেষে ২–১ গোলে জিতে গ্রুপের শীর্ষে উঠে যোগ্যতা অর্জন করে।

বিবিয়ানোর নিজের ভাষায়—

“ইরানের বিরুদ্ধে জয় দেখিয়ে দিল—ভারতে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। শুধু ঠিকভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন।”

???????? বিবিয়ানোর লক্ষ্য: শুধু যোগ্যতা নয়, বিশ্বকাপ!

এশিয়ান কাপে সেমিফাইনালে উঠতে পারলেই ভারত FIFA U17 World Cup-এ সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। আর সেই লক্ষ্যেই এখন প্রস্তুতি শুরু করতে চান বিবিয়ানো।

তিনি বলেন—

“২০১৮-তে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিলাম। এবারও যদি সঠিক প্রস্তুতি পাই, সেমিফাইনাল অসম্ভব কিছু নয়। আমরা বিশ্বকাপের খুব, খুব কাছাকাছি।”

???? এখনই স্কাউটিং, ডবল স্কোয়াড এবং এক্সপোজার ট্যুর প্রয়োজন

বিবিয়ানো মনে করেন—যোগ্যতা অর্জনই শেষ নয়, বরং এখান থেকেই শুরু।

তাঁর পরিকল্পনা—

  • ৪৬ জন ফুটবলারকে নিয়ে দ্বৈত স্কোয়াড তৈরি

  • অবিলম্বে দেশব্যাপী স্কাউটিং শুরু করা

  • উচ্চমানের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ

  • কমপক্ষে ৩ মাসের প্রস্তুতি শিবির

তিনি বলেন—

“এই বয়সে ফুটবলাররা দ্রুত উন্নতি করে। যত বেশি উচ্চ-স্তরের ম্যাচ খেলবে, তত দ্রুত উন্নতি হবে। তাই এএফসি টুর্নামেন্টের আগে ৮–১০টি বড় ম্যাচ দরকার।”

???? বিবিয়ানোর সাফল্যের রেকর্ড—অপরাজেয় বাছাইপর্ব

২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি অনূর্ধ্ব-১৬/১৭ দলের কোচ হিসেবে চারটি বাছাইপর্ব খেলেছেন এবং চারবারই ভারতকে এশিয়ান কাপে তুলেছেন।

  • ২০১৮ – যোগ্যতা অর্জন

  • ২০২০ – যোগ্যতা

  • ২০২২ – যোগ্যতা

  • ২০২৪ – আবারও যোগ্যতা

এই রেকর্ডই তাঁকে ভারতের সবচেয়ে সফল জুনিয়র কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, দরকার শুধু সঠিক প্রস্তুতির

বিবিয়ানো মনে করেন ভারত এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে বিশ্বকাপের দরজা খোলা সম্ভব।

“আমরা যদি নিজেদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করি, যদি ছেলেরা ঠিকভাবে প্রস্তুতি পায়—বিশ্বকাপের পথ আমাদের সামনে।”

ইরানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। এবার শুধু AIFF-এর দ্রুত সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা।

বিবিয়ানোর নেতৃত্বে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দল এখন সত্যিই এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে।

Advertisements